E-Passport Application | ই-পাসপোর্ট আবেদন

আপনি কি E-Passport Application সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান বা অনলাইনে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে চান? তাহলে আর্টিকেলটি আপনার জন্য। আর্টিকেলটি পড়ে আপনি ই-পাসপোর্টের আবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং এখান থেকে ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে পারবেন। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

ই-পাসপোর্ট কথাটা আমরা অনেক আগে থেকেই শুনে আসছি। ই-পাসপোর্ট ২০১৯ সালের জুলাই মাসের দিকে  চালু করার কথা ছিল। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে সেই তারিখে আর চালু করা হয়নি। অবশেষে মুজিব বর্ষ ২০২০ এর অন্যতম নতুন আকর্ষণ হিসেবে ২২ জানুয়ারী ২০২০ সালে ই-পাসপোর্টের ঘোষণা আসে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে ই-পাসপোর্ট কর্মসূচীর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এখন থেকে যেকোন বাংলাদেশী প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিক  ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে সব শর্ত পূরণ করে তারপর আবেদন করতে হবে। দক্ষিন এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রথম ই-পাসপোর্ট চালু করেছে। ই-পাসপোর্ট চালুর মধ্যে বাংলাদেশ পৃথিবীর ১১৯তম দেশ। ১৯৯৬ সালে সর্বপ্রথম মালেশিয়া ই-পাসপোর্ট সেবা চালু করে।

ই-পাসপোর্ট কি?

আমরা সবাই কম বেশি পাসপোর্ট সম্পর্কে জানি। তবে ই-পাসপোর্ট আমাদের জন্য নতুন।  ই-পাসপোর্ট আর মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের মধ্যে পার্থক্য সহজ ভাষায় বলতে গেলে অনেকটা এটিএম কার্ড ও চেক বই এর মতো। চেক বই ব্যবহার করে গ্রাহক নিজে একা একা টাকা তুলতে পারে না। এজন্য সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সীল, সাক্ষরের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ATM কার্ড ব্যবহার করে গ্রাহক এসব ঝামেলা ছাড়াই নিজের টাকা নিজে তুলতে পারেন। ই-পাসপোর্ট অনেকটা এটিএম কার্ডের মতই।

ই-পাসপোর্ট আবেদন

E-Passport হলো একটি বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট, যাতে একটি এমবেডেড ইলেকট্রনিক চিপ রয়েছে। এই চিপের মধ্যে রয়েছে বায়োমেট্রিক তথ্য, যা পাসপোর্ট ব্যবহারকারীর সকল তথ্য ধারণ করে। আপাতত দৃষ্টিতে পাসপোর্ট বইটি দেখে কোন কিছু বুঝা যায় না। দেখতেও অনেকটা MRP পাসপোর্টের মতই। কিন্তু ভিতরে সংযুক্ত চিপটি MRP পাসপোর্ট আর ই-পাসপোর্টের মধ্যকার প্রধান পার্থক্য সৃষ্টি করেছে। এই চিপের মধ্যে আছে বায়োমেট্রিক তথ্য যা পাসপোর্টধারীর যাবতীয় তথ্য বহন করে। এতে মাইক্রো প্রসেসর চিপ এবং অ্যান্টেনা সহ স্মার্ট কার্ডের প্রযুক্তি ব্যাবহার করা হয়ে থাকে।

E-Passport এ যেসব বায়োমেট্রিক তথ্য নেয়া হয় সেসব হলোঃ ছবি, আঙ্গুলের ছাপ অর্থাৎ ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিশ। ই বর্ডার বা ইলেক্ট্রনিক বর্ডার কন্ট্রোল সিস্টেমের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক যাচাই করা হয়। পাব্লিক কিই ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা PKI এর মাধ্যমে চিপে সংরক্ষিত ডাটা পরীক্ষা করা হয়। এখানে থাকবে পাসপোর্টধারীর ৩ ধরনের ছবি, ১০ আঙ্গুলের ছাপ এবং চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি।

ই-পাসপোর্টের সুবিধা কি?

ই-পাসপোর্টের অনেক সুবিধা রয়েছে। ই-পাসপোর্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এর মাধ্যমে ই-গেট ব্যবহার করতে পারবেন। যার ফলে আপনি খুব দ্রুত ও সহজে যাতায়াত করতে পারবেন। বিভিন্ন বিমানবন্দরে ভিসা চেকিংয়ের জন্য আপনাকে আর লাইনে দাঁড়াতে হবে না। এর মাধ্যমেই আপনার ইমিগ্রেশন দ্রুত হয়ে যাবে। ই-পাসপোর্টের জন্য বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও নৌবন্দরে ই-গেট স্থাপন করা হবে। আমাদের দেশের বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে ই-গেট স্থাপন হয়েছে।

 

নিরাপত্তা চিহ্ন হিসেবে ই-পাসপোর্টে থাকবে চোখের মণির ছবি। থাকবে আঙুলের ছাপও। আর এর পাতায় থাকা চিপসে সংরক্ষিত থাকবে পাসপোর্টধারীর সকল তথ্য। এটার ফলে কেউ আর পরিচয় গোপন বা কোন রকম জালিয়াতি করতে পারবে না। আমাদের দেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ই-পাসপোর্ট বা ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট সেবা। পাসপোর্টধারী চাইলে এর মাধ্যমে কারও সাহায্য ছাড়া নিজেই নিজের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারবে। পুরো প্রক্রিয়াটি এক মিনিটেরও কম সময়ে সম্পন্ন করা যাবে।

ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগবে?

ই-পাসপোর্ট করতে আবেদনকারীর কিছু কাগজপত্র লাগবে। নিচে কাগজপত্র গুলোর তালিকা দেওয়া হলোঃ

  1. ই-পাসপোর্ট আবেদন ফর্ম
  2. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
  3. জন্ম নিবন্ধন পত্র
  4. ছাত্র হলে স্টুডেন্ট আইডি কার্ড

ই-পাসপোর্ট আবেদন ফর্ম সরকারী ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। যা PDF ফরম্যাটে ডাউনলোড করে নিতে হবে। আবেদন ফর্মটি অবশই জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী সঠিকভাবে পূরণ করে নিতে হবে। আবেদন পত্র নির্দিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে জমা দেওয়ার সময় দশ আঙ্গুলের ছাপ, আইরিশের ছবি ও আবেদনকারীর ছবি তোলা হবে। তারপর পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হবে। এখানে উল্লেখ্য যে, আবেদনকারীর বয়স ১৮ এর নিচে হলে পিতা ও মাতার ন্যাশনাল আইডি নম্বর অবশ্যই সেখানে দিতে হবে।

E-Passport Application

E-Passport এর আবেদন কিভাবে করা যায়?

চলুন এবার E-Passport এর আবদেন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নেই। E-Passport এর আবেদন করার জন্য প্রথমে নিচে দেওয়া লিংকটিতে প্রবেশ করতে হবে। তারপর আপনার বিস্তারিত তথ্য দিয়ে আবেদন সম্পন্ন করুন। www.dip.gov.bd




সাইটে প্রবেশ করার পর অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন দেখতে পাবেন। সেখানে নতুন বা রি-ইস্যু বাটন পাবেন। এই বাটনে ক্লিক করে সরাসরি আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন।

E-Passport Application সম্পন্ন করার জন্য আপনাকে ছয়টি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। ছয়টি ধাপ সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলোঃ

১ম ধাপ : ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া

ই-পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে প্রথম যে ধাপ তা হচ্ছে সরকার নির্ধারিত ফি ব্যাংকে জমা দেওয়া। এটি আপনাকে ব্যাংকে গিয়ে জমা দিয়ে আসতে হবে। কেননা, অনলাইন আবেদন ফর্মে উক্ত ব্যাংকের রিসিট নম্বর এবং জমার তারিখ সংযুক্ত করা লাগবে। বাংলাদেশের পাসপোর্ট অফিস দ্বারা নির্ধারিত ব্যাংকের সকল শাখাতে পাসপোর্টের ফি জমা দিতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ বিকাশ দিচ্ছে ১০ হাজার টাকা লোন

সোনালী ব্যাংকে টাকা জমা দিতে পারবেন। তবে সোনালী ব্যাংকের পাশাপাশি আরও পাঁচটি ব্যাংকে টাকা জমা দিতে পারবেন। ব্যাংক গুলোর নাম নিচে দেওয়া হলোঃ

১) ওয়ান ব্যাংক।
২) ট্রাস্ট ব্যাংক।
৩) ব্যাংক এশিয়া।
৪) প্রিমিয়ার ব্যাংক।
৫) ঢাকা ব্যাংক।

এই ব্যাংকগুলোতে আপনি অনলাইনে ক্রেডিট কার্ড ও মোবাইলের মাধ্যমেও পাসপোর্টের ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

২য় ধাপঃ ই-পাসপোর্ট আবেদন ফরমপূরণ

ই-পাসপোর্ট আবেদন ফরম পূরণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অনলাইনের ফরম পূরণ করতে নির্দেশনা মনযোগ সহকারে দেখুন, সতর্কতার সাথে পূরণ করুন। অনলাইনে ফরম পূরণের জন্য প্রথমে http://www.dip.gov.bd/ এই লিংকে প্রবেশ করুন।

e-passport application

তারপর I have read the above information and the relevant guidance notes এ টিক চিহ্ন দিয়ে continue to online enrollment এ ক্লিক করুন। মনে রাখবেন, আপনার নাম ও ব্যক্তিগত সকল তথ্য আপনার শিক্ষাগতযোগ্যতা বা জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো হয়। যদি কোনো তথ্য ভুল হয়, তাহলে পাসপোর্টে হতে সমস্যা হবে। আবেদন ফরমে যেসব তথ্য দিতে হবে তা নিচে দেওয়া হলোঃ

  • আপনার মোবাইল নাম্বার ও ই-মেইল এড্রেস দিতে হবে। মনে রাখবেন, ই-মেইল অ্যাড্রেস ও মোবাইল নম্বার দেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই যেটি ব্যবহৃত হচ্ছে সেটি দিবেন।
  • টাকা জমা দেওয়ার তারিখ এবং রিসিট নম্বর দিতে হবে।
  • পাসপোর্ট টাইপ সিলেক্ট করতে হবে ‘ordinary’। যে অংশগুলো লাল স্টার মার্ক দেয়া রয়েছে, সেগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।
  • ডেলিভারি অংশে ত্রিশ দিনের জন্য হলে রেগুলার এবং পনের দিনের জন্য হলে এক্সপ্রেস সিলেক্ট করতে হবে।

সম্পূর্ণ ফরমটি পূরণ করার পর এটি পুনরায় এটি চেক করে নিতে হবে। সব তথ্য ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করে দেখে নিতে হবে। তারপর আপনাকে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে। সফলভাবে Submit করা হলে পূরণ করা ফরমের ডাউনলোড করার Link টি পাবেন। আপনার ফর্মটি ডাউনলোড করে নিন। PDF কপি যে Email অ্যাড্রেস দিয়ে ফরম পূরণ করা হয়েছে, সেখানে চলে আসবে। অনলাইনে একাউন্ট খোলার পরেই আপনাকে User ID এবং পাসওয়ার্ড জানিয়ে দেওয়া হবে। সেটা সংরক্ষণ করে রাখতে হবে, যাতে পরবর্তীতে ব্যবহার করা যায়।

৩য় ধাপঃ আবেদন ফর্মের প্রিন্ট কপি ও সত্যায়ন

পূরণকৃত ফর্মের প্রিন্ট কপি লাগবে। এজন্য, পূরণকৃত ফর্মের PDF কপির ২ কপি কালার প্রিন্ট করা লাগবে। যেসব জায়গা পূরণ করতে হবে সেগুলো পূরণ করে ফেলুন। ফরমটিতে আবেদনকারীর স্বাক্ষর করার স্থানে স্বাক্ষর করতে হবে।

এবার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং আপনার পাসপোর্ট সাইজের ছবি সত্যায়িত করতে হবে। তারপর একটি করে উভয় ফর্মে আঠা দিয়ে লাগানোর পর দুটো ই-পাসপের্টের আবেদন ফর্মই সত্যায়িত করতে হবে। আপনার পরিচিত কোনো প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার কাছ থেকে সত্যায়িত করে নিতে পারবেন।

পরিচিত কাউকে দিয়ে সত্যায়ন করালে ভাল হয়। কেননা, ঐ কর্মকর্তার নাম, যোগাযোগ ও মোবাইল নম্বর এবং NID কার্ডের নম্বর ফরমে লিখতে হবে। ছবিটি এমনভাবে সত্যায়িত করা লাগবে যেন সত্যায়নকারীর স্বাক্ষর এবং সীলমোহর এর অর্ধেক অংশ ছবির উপর আর বাকি অর্ধেক অংশ ফরমের কাগজে থাকে। সত্যায়ন শেষে পুরো ফর্মটি পুনরায় দেখে নিন।

৪র্থ ধাপঃ সম্পূর্ণ ফরমটি রি-চেক

আপনার সত্যায়িত ছবি এবং ব্যাংকের রিসিট আঠা দিয়ে ফরমের সঙ্গে যুক্ত করে নিতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপিটিও প্রিন্ট করা ফরমটির সঙ্গে যুক্ত করে রাখতে হবে। আর আপনি যদি শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন তাহলে আবেদন করার সময় অবশ্যই স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের ফটোকপি সত্যয়িত করতে হবে। তারপর সেটা ফরমের সঙ্গে যুক্ত করে দিতে হবে।

৫ম ধাপ : ফরম জমা দেয়া ও ছবি তোলা

E-Passport এর অনলাইন ফর্ম পূরণের ১৫ দিনের মধ্যে ফর্মের প্রিন্ট কপি, সত্যায়িত ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত ফটোকপি পাসপোর্ট অফিসে নিয়ে যেতে হবে। সাথে অবশ্যই অরিজিনাল কপি নিবেন, কারণ সেখানে দেখতে চাইবে। আর আপনি যদি স্টুডেন্ট হিসেবে আবেদন করেন তাহলে স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়ে যেতে হবে। মনে রাখবেন, পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় বা ছবি তোলার সময় সাদা পোশাক, সাদা টুপি ও চোখে চশমা পরে যাওয়া যাবে না।

আপনি যদি সকালের দিকে পাসপোর্ট অফিসে যান তাহলে ভালো হবে। কারণ, তখন লাইনে ভিড় কম থাকে। আপনাকে সরাসরি মেইন গেইট দিয়ে মূল অফিসে ঢুকতে হবে। আপনার ফর্মটি সাথে নিয়ে সেখানে দায়িত্বরত সেনা সদস্যকে বলতে হবে কোথায় যেতে হবে। সেনাসদস্য আপনাকে দেখিয়ে দিবে কোথায় ফর্ম সহ আপনাকে যেতে হবে।

E-Passport এর আবেদনপত্রটির ভেরিফিকেশন যাচাই ও জমা দেওয়ার আগে দায়িত্বরত কর্মকর্তা আবেদনপত্রে সিলসহ স্বাক্ষর করে দিবেন। এরপর আপনাকে আবেদনপত্রটি নির্দিষ্ট স্থানে জমা দিতে হবে। পাসপোর্ট অফিসের মধ্যেই বেশ কয়েকটি বুথ আছে, সেখানে ফরমটি জমা দিতে হবে।

আবেদনপত্রটি জমা দেয়ার সময় সেখানকার দায়িত্বরত ব্যক্তি আপনার তথ্যগুলো কম্পিউটারে এন্ট্রি করে  তুলে রাখবেন। এরপর তিনি আপনাকে একটি টোকেন দিয়ে দেবেন। এবার আপনার ছবি তোলার পালা। ছবি তোলার জন্য সে টোকেনটিসহ আবেদনপত্রটি নিয়ে আরেকজন কর্মকর্তার কাছে যেতে হবে আপনাকে। এছাড়াও দুই হাতের আঙুলের ছাপও দিতে হবে ইলেকট্রনিক মেশিনে। এরপর নেয়া হবে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর। তবে, ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর আবেদনপত্রের স্বাক্ষরের সাথে যেনো মিল থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।সাধারণত E-Passport Application এর ফরম জমা নেয়া হয় প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে দুপুর ১:৩০ মিনিট পর্যন্ত। আর পাসপোর্ট বিতরণ করা হয় প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। সরকারি ছুটির দিন বাদ দিয়ে সপ্তাহের বাকি পাঁচ দিন পাসপোর্ট অফিস খোলা থাকে।

৬ষ্ঠ ধাপঃ পুলিশ ভেরিফিকেশান ও পাসপোর্ট নেওয়া

যদি আপনার স্থায়ী ঠিকানা আর বর্তমান ঠিকানা দুইটি আলাদা হয়, তবে আপনার দুই জায়গাতেই পুলিশ ভেরিফিকেশান করা হবে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় আপনার NID কার্ডের ফটোকপি ও বিদ্যুৎ বিল/ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হবে। মনে রাখবেন, পুলিশ ভেরিফিকেশান হওয়ার  রিসিট পাওয়ার একমাস বা ১৫দিনের মধ্যেই আপনি পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।

পুলিশ ভেরিফিকেশান শেষ হওয়ার পর আপনার মোবাইলে একটি এস এম এস আসবে। আপনার মোবাইলে SMS আসার পর আপনি পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন। কাজ এতটুকুই। এইবার ই-পাসপোর্ট হাতে নেওয়ার পালা। পাসপোর্টে আপনার তথ্য সঠিক আছে কিনা যাচাই করে নিতে হবে। যদি কোন তথ্য ভুল থাকে তাহলে সংশ্লিস্ট অপারেটরকে জানিয়ে তাৎক্ষণিক পাসপোর্ট এর তথ্য সংশোধন করে নিতে পারবেন।

ই-পাসপোর্টের জন্য ফি কত দিতে হবে?

ই-পাসপোর্ট মূলত ৪৮ ও ৬৪ পাতার হয়ে থাকে। ই-পাসপোর্টের ধরন তিন রকম। যেমনঃ

  • অতি জরুরি
  • জরুরি
  • সাধারণ।

পাঁচ বছর ও দশ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হারে ফি জমা দেওয়া লাগবে। সেই সাথে রয়েছে পাসপোর্ট পাওয়ার সময়ের ভিন্নতা।

 বছর মেয়াদি E-Passport

১. ৪৮ পাতার ‘অতি জরুরি পাসপোর্ট’ এর জন্য ফি দিতে হবে ৭,৫০০ টাকা। (সময়ঃ২ দিন)
২. ৪৮ পাতার ‘জরুরি পাসপোর্ট’ এর জন্য ফি দিতে হবে ৫,৫০০ টাকা। (সময়ঃ ৭ দিন)
৩. ৪৮ পাতার ‘সাধারণ পাসপোর্ট’ এর জন্য ফি দিতে হবে ৩,৫০০ টাকা। (সময়ঃ ১৫ দিন)

১০ বছর মেয়াদি E-Passport

১. ৪৮ পাতার ‘সাধারণ পাসপোর্ট’ এর জন্য ফি দিতে হবে ৫,০০০ টাকা। (সময়ঃ ১৫ দিন)
২. ৪৮ পাতার ‘জরুরি পাসপোর্ট’ এর জন্য ফি দিতে হবে ৭,০০০ টাকা। (সময়ঃ ৭ দিন)
৩. ৪৮ পাতার ‘অতি জরুরি পাসপোর্ট এর জন্য ফি দিতে হবে ৯,০০০ টাকা। (সময়ঃ২ দিন)

 বছর মেয়াদি E-Passport

১. ৬৪ পাতার ‘সাধারণ পাসপোর্ট’ এর জন্য ফি দিতে হবে ৫,৫০০ টাকা। (সময়ঃ ১৫ দিন)
২. ৬৪ পাতার ‘জরুরি পাসপোর্ট’ এর জন্য ফি দিতে হবে ৭,৫০০ টাকা। (সময়ঃ ৭ দিন)
৩. ৬৪ পাতার ‘অতি জরুরি পাসপোর্ট’ এর জন্য ফি দিতে হবে ১০,৫০০ টাকা। (সময়ঃ২ দিন)

১০ বছর মেয়াদি E-Passport

১. ৬৪ পাতার ‘সাধারণ পাসপোর্ট’এর জন্য ফি দিতে হবে ৭,০০০ টাকা। (সময়ঃ ১৫ দিন)
২. ৬৪ পাতার ‘জরুরি পাসপোর্ট’ এর জন্য ফি দিতে হবে ৯,০০০ টাকা। (সময়ঃ ৭ দিন)
৩. ৬৪ পাতার ‘অতি জরুরি পাসপোর্ট’ এর জন্য ফি দিতে হবে ১২,০০০ টাকা। (সময়ঃ২ দিন)

ই-পাসপোর্ট কোথায় করা যায়?

E-Passport Application করার আমাদের দেশে ৭১টি পাসপোর্ট অফিস রয়েছে। এসব অফিসে প্রায় ২০ হাজার নতুন পাসপোর্ট ও নবায়নের আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ঢাকার আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা ও কেরানীগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে জমা পড়ে গড়ে প্রায় চার হাজার এর মতো আবেদন।

আমাদের দেশের পাসপোর্টে ইসরাইল ব্যতীত পৃথিবীর আর সব দেশে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে। উল্লেখ্য, প্রতিটি বিভাগীয়/আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে মুক্তিযোদ্ধা, বৃদ্ধ নাগরিক, অসুস্থ ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জন্য আলাদা কাউন্টারে আবেদন করার সু-ব্যবস্থা রয়েছে। নিচে ই-পাসপোর্টের আবেদন করা যায় এমন কিছু অফিসের তালিকা দেওয়া হলোঃ

  • প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাসপোর্টের আলাদা শাখা থেকে পাসপোর্ট বানাতে পারবেন।
  • দেশের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসগুলো থেকে পাসপোর্ট বানাতে পারবেন।
  • ঢাকার আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসঃ ঢাকা শহরের সবুজবাগ, মতিঝিল পল্টন থেকে শুরু করে আশুলিয়া সাভার, ধামরাই সহ মোট ২৮টি থানার লোক এখান থেকে পাসপোর্ট করতে পারবেন।
  • ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ঃ ঢাকা মহানগরের ও জেলার বাকি ১০ টি থানায় বসবাসকারীরা এখান থেকে পাসপোর্ট করতে পারবেন।
  • দেশের প্রতিটি জেলার জিপিও থেকে পাসপোর্ট করতে পারবেন।
  • আমাদের দেশের পাসপোর্ট অফিস বা বিদেশে বাংলাদেশী দূতাবাস হতে পাসপোর্ট দেওয়া হয়ে থাকে।

 

E-Passport Application অনলাইনে চেক করা যায়?

E-Passport Application ই-পাসপোর্ট বিষয়ক ওয়েবসাইটে স্ট্যাটাস চেক করে দেখতে পারবেন। এজন্য আপনাকে জন্মতারিখ ও আবেদনের ক্রমিক সংখ্যা দিয়ে সার্চ অপশনে ক্লিক করতে হবে। আপনার অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে আপনার আবেদনের সব অবস্থা দেখতে পারবেন।

দেখতে কেমন হবে ই-পাসপোর্ট?

চলমান মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের বা MRP এর মতোই হবে ই-পাসপোর্ট। তবে MRP এর প্রথম দুই পাতায় পাসপোর্টধারীর তথ্য থাকলেও ই-পাসপোর্টের দ্বিতীয় পাতাটি থাকবে একটি পালিমারের তৈরি কার্ডের মতো।  পাসপোর্ট বাহকের নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখসহ নানা মৌলিক তথ্য থাকবে সেখানে।

 

e-passport application

এছাড়াও সেই কার্ডের ভেতরে একটি মাইক্রো চিপ থাকবে। যেখানে পাসপোর্ট বাহকের সব গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য ও ডাটাবেজ সংরক্ষিত থাকবে। উক্ত ডাটাবেজে থাকবে পাসপোর্টধারীর তিন ধরনের ছবি, দশ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ।

আশা করছি, E-Passport Application সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। তারপরেও আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমার আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন। আপনার দিনটি শুভ হোক।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *