জাতীয় পরিচয় পত্রের ভুল সংশোধন – NID Card Correction

NID Card Correction বা জাতীয় পরিচয় পত্রের ভুল সংশোধন করার ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে পারবেন এই আর্টিকেলটিতে। আমাদের দেশে ১৮ বছরের উপর বয়স হলে এনআইডি কার্ড এর আবেদন করা যায়। এনআইডি কার্ড আমাদের নানা রকম কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই এনআইডি কার্ডের গুরুত্ব অনেক।

আমাদের অনেকেরই NID Card এর অনেক তথ্য ভুল হয়ে যায়। যেমন: কারো নিজের নাম ভুল হয়, কারো বাবার নাম বা মায়ের নাম ভুল হয়। আর এই ভুলের জন্য আমাদের নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। তাই আমাদের NID Card বা ভোটার আইডি কার্ডের ভুল সংশোধন করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। আপনি চাইলে আপনার ভোটার আইডি কার্ডের ভুল তথ্য সংশোধন করতে পারেন এমনকি আপনার ছবিও পরিবর্তন করতে পারেন। আজ আমরা জানবো কিভাবে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করা যায়। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

কিভাবে আপনার NID Card Correction করবেন?

NID Card বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার জন্য প্রথমে আপনাকে নিচে দেওয়া লিংকে প্রবেশ করতে হবে।  https://services.nidw.gov.bd/registration

এরপর ফরমটি সঠিক ভাবে পুরণ করতে হবে। ফরমটি সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো।

NID নম্বরঃ আপনার NID নম্বরটি যদি ১৩ সংখ্যার হয় তবে অবশ্যই প্রথমে আপনার জন্মসাল দিতে হবে। উদাহরণঃ আপনার কার্ড নাম্বার যদি ১২৩৪৫৬৭৮৯১০০০ হয় এবং জন্মসাল যদি ১৯৯০ হয় তাহলে আপনি এভাবে দিবেন- ১৯৯০১২৩৪৫৬৭৮৯১০০০ ।

জন্ম তারিখঃ আপনার NID কার্ড দেখে সিলেক্ট করে নিন।

মোবাইল নাম্বারঃ আপনার সঠিক মোবাইল নাম্বারটি দিন। কারণ আপনার মোবাইল নাম্বারটিতে ভেরিফাই কোড পাঠানো হবে।

ইমেইলঃ আপনার ইচ্ছা হলে দিতে পারেন না দিলে সমস্যা নাই। এটার সুবিধা হলো, ইমেইল আইডি দিলে পরবর্তীতে লগইন করার সময় ভেরিফাই কোড ইমেইলে সেন্ড করতে পারবেন যদি মোবাইল হাতের কাছে না থাকে।

বর্তমান ঠিকানা: আপনার বিভাগ, জেলা, উপজেলা/থানা সিলেক্ট করুন ভোটার হবার সময় যা যা দিয়েছিলেন।

স্থায়ী ঠিকানা: একইভাবে বিভাগ, জেলা, উপজেলা/থানা সিলেক্ট করুন ভোটার হবার সময় যা যা দিয়েছিলেন।

লগইন পাসওয়ার্ড: এবার একটি পাসওয়ার্ড দিতে হবে। পাসওয়ার্ড অবশ্যই ৮ সংখ্যার হতে হবে। বড় হাতের অক্ষর ও সংখ্যা থাকতে হবে। যেমনঃ TuneRound2020

তারপরের কাজ গুলো কিভাবে পূরণ করতে হবে তা বিস্তারিত জেনে নিন।

  • লিংকে প্রবেশ করার পর প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী পূরণ করে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিন।
  • তারপর আপনার কার্ডের তথ্য ও মোবাইলে প্রাপ্ত এক্টিভেশন কোড সহকারে লগ ইন করে নিন।
  • এরপর তথ্য পরিবর্তনের ফর্মে তথ্য হালনাগাদ করে সেটির প্রিন্ট কপি নিয়ে নিন।
  • প্রিন্টকৃত ফর্মটিতে স্বাক্ষর করে সেটির স্ক্যানকৃত কপি অনলাইনে জমা দিয়ে দিন।
  • আপনার ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য পরিবর্তনের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলাদি কালার স্ক্যান কপি অনলাইনে জমা দিন।

আপনার সকল তথ্য দেওয়ার পর সঠিক ভাবে ক্যাপচা পূরণ করুন। ছোট হাতের বড় হাতের অক্ষর বা সংখ্যা যা দেওয়া আছে তাই বসান তবে স্পেস দিতে হবেনা সেখানে। এরপর রেজিষ্টার বাটন ক্লিক করে দ্বিতীয় ধাপে চলে যেতে পারেন।

NID বা ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের দ্বিতীয় ধাপ

ফরম টি সঠিক ও সফল ভাবে রেজিস্টেশন করার পর আপনার মোবাইলে একটি ভেরিফাইড কোড আসবে। তারপর দেখবেন ব্রাউজারে ঐ কোড সাবমিট করার অপশন চলে এসেছে। তারপর উক্ত স্থানে আপনার মোবাইলের ভেরিফিকেশন কোড বসান ও রেজিস্টার বাটনে ক্লিক করুন।

বিঃ দ্রঃ ২ মিনিটের মধ্যে আপনার মোবাইলে কোড না আসলে, পুণরায় কোড পাঠাতে পারবেন।

আপনি যদি সঠিক ভাবে কোডটি দিয়ে থাকেন তাহলে আপনার Account টি Active হয়ে যাবে। এবার একটি পেইজ আসবে সেখানে আপনাকে লগইন করতে বলা হবে। অথবা আপনি এখান থেকে লগইন করতে পারেন https://services.nidw.gov.bd/login

লগইন করার জন্য আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার (১৩ সংখ্যার হলে অবশ্যই প্রথমে আপনার জন্মসাল দিতে হবে) জন্মতারিখ ও আপনার দেওয়া পাসওয়ার্ড দিয়ে ভেরিফাই কোড কিভাবে পেতে চান তা সিলেক্ট করুন।

রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল নাম্বার আপনার হাতের কাছে থাকলে মোবাইল সিলেক্ট করুন। আর যদি তা না থাকে তাহলে ইমেইলে সিলেক্ট করুন। এবার সামনে ক্লিক করুন। তারপর আপনার সিলেক্ট করা অপশন মোবাইল নাম্বার বা ইমেইল থেকে ভেরিফাই কোড বসিয়ে লগইন করুন।

বিঃ দ্রঃ দুই মিনিটের মধ্যে যদি কোড না আসে তবে পুনরায় কোড পাঠান বাটনে ক্লিক করুন।

আপনার কাজ মোটামুটি শেষ পর্যায়ে। সব কিছু সঠিকভাবে করতে পারলে  নির্বাচন কমিশনের কাছে থাকা আপনার ডাটাবেজের সব তথ্য দেখা যাবে এবার। এরপর নিচের যেকোনো অপশনে চাহিদা অনুযায়ী ক্লিক করুন আর আপনার ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য সংশোধন করে নিন। এভাবেই আপনি আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধন করতে পারবেন। আপনি যদি চান তাহলে আপনার ছবিও পরিবর্তন করতে পারবেন খুব সহজেই।

আশা করছি, NID Card Correction নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। তারপরেও যদি আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। তাহলে আজ এই পর্যন্তই।  সবাই ভালো থাকবেন। আর্টিকেলটি পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

16 Comments

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *