শহীদদের জানাযার নামায

হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ স. উহুদের যুদ্ধের দিন একসাথে দশজন করে শহীদের লাশ সামনে রাখতেন। আর তাদের এবং হামযা রা.-এর জানাযার নামায একসাথে পড়তেন। এরপর অপর দশজনকে আনা হতো আর হামযা রা. সেখানেই থেকে যেতেন। তারপর অপর দশজনকে আনা হতো এবং তাদের এবং হামযা রা.-এর জানাযা একসাথে আদায় করা হতো। (ত্বহাবী: ২৬৫৫)

হাদীসটির স্তর : সহীহ। ইবরাহীম বিন আবু দাউদ ব্যতীত এ হাদীসের রাবীগণ সকলেই বুখারী-মুসলিমের রাবী। আর ইবরাহীম বিন আবু দাউদ হাদীসের হাফেজ। ইবনে ইউনুস বলেন, তিনি ছিলেন দৃঢ়, বিশ্বস্ত এবং উৎকৃষ্ট হাফেজদের একজন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা, তবকা-১৪, রাবী নং-২৩৮)

হযরত শাদ্দাদ বিন হাদ রা. সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, গ্রাম্য এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ স.-এর কাছে এসে ঈমান আনলো এবং তাঁর অনুসরণ করলো। কোন এক যুদ্ধে সে শহীদ হলে রসূলুল্লাহ স. তাকে নিজ কাপড়ে কাফন পরিয়ে তাঁর জানাযার নামায পড়ালেন। নামাযে রসূলুল্লাহ স.-এর যবান থেকে এ দুআ প্রকাশ পেল: হে আল্লাহ তোমার এ বান্দা তোমার পথে হিজরত করেছে অতঃপর শহীদ হয়ে মৃত্যু বরণ করেছে আমি তার সাক্ষী। (নাসঈ: ১৯৫৭)

হযরত উকবা বিন আমের রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রসূলুল্লাহ স. উহুদের ময়দানের উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং মৃত ব্যক্তির জন্য যেমন জানাযার নামায আদায় করা হয় উহুদের শহীদদের জন্য তেমন নামায আদায় করলেন। (বুখারী:১২৬৩) শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি মুসলিম, নাসাঈ এবং আবু দাউদ শরীফেও বর্ণিত হয়েছে। (জামেউল উসূল-৮৪৬৯)

সারসংক্ষেপ: এ সকল হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, শহীদদের জানাযা পড়তে হয়।

আত্মহত্যাকারীর জানাযায় নেতৃস্থানীয় আলেম শরীক হবেন না

হযরত আবুজ্জুবায়ের রহ. বলেন, আমি হযরত জাবের রা. কে জিজ্ঞেস করলাম যে, কোন মহিলা ব্যভিচারের মাধ্যমে জন্ম নেয়া সন্তান প্রসব কালে মারা গেলে তার জানাযা পড়া হবে কি? তিনি বলেন, যে ব্যক্তি لآ اِلَهَ اِلّا اللّهُ বলে তার জানাযা পড়ো। (ইবনে আবী শাইবা: ১১৯৮১)

হাদীসটির স্তর: সহীহ। এ হাদীসের রাবীগণ সকলেই বুখারী/মুসলিমের রাবী।
হযরত ইবনে সীরীন রহ. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, কোন আলেম বা তাবেঈ গোনাহগার হওয়ার কারণে কোন মুমিনের জানাযা তরক করেছেন বলে আমার জানা নেই। (ইবনে আবী শাইবা: ১১৯৮৭)

সারসংক্ষেপ: উপরোক্ত হাদীস দুটি দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কালিমা পাঠকারী যে কোন মুসলমানেরই জানাযা পড়তে হবে।

হযরত জাবের বিন সামুরা রা. থেকে বর্ণিত: এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করলের সূলুল্লাহ স. তার জানাযা পড়েননি। ইমাম তিরমিযী রহ. বলেন: এ হাদীসটি হাসান। এ বিষয়ে আলিমদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কোন কোন আলিম বলেন: কিবলার দিকে ফিরে নামায আদায়কারী (মুমিন) প্রত্যেক ব্যক্তির এবং আত্মহত্যাকারীর জানাযা নামায আদায় করতে হবে। এটা হযরত সুফিয়ান সাওরী ও ইসহাক রহ.-এর অভিমত। আর ইমাম আহমাদ রহ. বলেন: ইমাম আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়বেন না; তবে অন্যরা পড়বেন। (তিরমিযীঃ ১০৬৮)

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, রসূল স. আত্মহত্যাকারী ব্যক্তির জানাযা পড়েননি। আর উপরের হাদীসগুলো থেকে প্রমাণিত হয় যে, যে কোন ঈমানদার মারা গেলেই তার জানাযা পড়া হবে সে যতবড় অপরাধীই হোক। উপরোক্ত দুই ধরণের হাদীসের সমন্বয় এভাবে হতে পারে যে, আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়া হবে। তবে বাদশা বা তার প্রতিনিধি অথবা সমাজের সম্মানীয় উলামায়ে কিরাম উক্ত জানাযায় শরীক হবেন না। যাতে করে এ জাতীয় ঘৃণ্য কাজ থেকে অন্যরা বিরত থাকে। এমনই মত পোষণ করেছেন ইমাম আহমাদ রহ.। ইমাম তিরমিযী রহ. এ হাদীসের ব্যাখ্যায় যেমনটি বর্ণনা করেছেন।

ফরয নামাযের সময় জানাযা হাজির হলে আগে ফরয পড়তে হবে।

সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, হাসান বসরী ও ইবনে সীরীন রহ. বলেন: জানাযা ও ফরয নামায একত্রিত হলে আগে ফরয পড়া হবে। (ইবনে আবী শাইবা: ১১৪৪৭)

হাদীসটির স্তর : সহীহ, মাকতু’। ওয়ালীদ বিন আবী মালেক ব্যতীত এ হাদীসের রাবীগণ সকলেই বুখারী/মুসলিমের রাবী। আর ওয়ালীদ বিন আবী মালেক নির্ভরযোগ্য। (তাকরীব: ৮৩৭৫)

হযরত মুজাহিদ রহ. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, জানাযা ও ফরয নামায একত্রিত হলে আগে ফরয পড়া হবে। (ইবনে আবী শাইবা ১১৪৪৯)

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ফরয নামাযের সময় জানাযা হাজির হলে আগে ফরয নামায তারপরে জানাযা পড়া হবে।

Add a Comment

Your email address will not be published.