যে সমস্ত কারণে রোযা ভঙ্গ হয় এবং কাযা ও কাফফারা উভয়ই দিতে হয়

রোজা_রোযা
Image Credits: Pexels

নিম্ন লিখিত কারণগুলো পাওয়া গেলে রোযার কাযা এবং কাফ্ফারা উভয়ই দিতে হবে। যেমন-
(১) ইচ্ছাকৃত খানা খেলে।
(২) ইচ্ছাকৃত সহবাস করলে বা করালে।
(৩) ইচ্ছাকৃত ঔষধ সেবন করলে।
(৪) শিঙ্গা লাগাবার পর রোযা নষ্ট হয়েছে মনে করে খানা খেলে।
বিঃ দ্রঃ তারাবির নামাযের বর্ণনা বার চাঁদের ফযিলত অধ্যায় দেখুন

কাফ্ফারার নিয়ম

কাফ্ফারা দেবার নিয়ম হল একটি রোযার জন্য দু’মাস বিরতিহীনভাবে রোযা রাখবে। তার মধ্যে একটি ভেঙ্গে ফেললে পুনরায় শুরু হতে দু’মাস রোযা রাখতে হবে।

যে সমস্ত কারণে শুধু একটির জন্য একটি রোযাই ক্বাযা দিতে হয়

নিম্নের কারণসমূহ পওয়া গেলে শুধু ক্বাযা করতে হয়। যেমন-
(১) কুল্লি করবার সময় হঠাৎ পেটের ভেতরে পানি প্রবেশ করলে।
(2) কেউ জোরপূর্বক কিছু খওয়ালে।
(৩) গুহ্যদ্বারা বা প্রশ্রাব দ্বারা পিচকারী করালে।
(৪) কানে পানি টপকালে।
(৫) পেটের ক্ষতস্থানে ঔষধ দেবার পর ঐ ঔষধ পেটে চলে গেলে।
(৬) নাকে ঔষধ দেবার পর মগজে প্রবেশ করলে।
(৭) কোন পাথরের টুকরা ইত্যাদি গিলে ফেললে।
(৮) মুখ ভরে বমি করলে।
(৯) রোযার নিয়ত না করলে।
(১০) ঘুমন্ত অবস্থায় সহবাস করা হয়েছে বুঝতে পারলে।
(১১) ছেহরীর সময় নেই, অথচ আছে মনে করে পানাহার করলে এবং বৃষ্টির পানি গলার ভেতর গেলে।
(১২) সূর্য অস্ত যায়নি অথচ গিয়েছে মনে করে ইফতার করলে।
(১৩) রোযার নিয়ত না করে খানা খেলে।
(১৪) মুখে বমি আসবার পর পুনরায় গিলে ফেললে।                                        (শঃ বেকায়া)

যে সমস্ত কারণে রোযা ভঙ্গ হয় না

নিম্নোক্ত কাজ গুলো করলে রোযা ভঙ্গ হয় না।
(১) ভুলে সহবাস বা পানাহার করলে।
(২) স্বপ্ন দোষ হলে।
(৩) শরীরে তৈল মর্দন করলে।
(8) সুরমা লাগালে।
(৫) অনিচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি করলে।
(৬) ইচ্ছাকৃত অল্প অল্প করে বমি করলে।
(৭) গলায় ধুলো-বালি, ধুঁয়া ও মশা-মাছি ইত্যাদি প্রবেশ করলে।
(৮) কানে পানি প্রবেশ করলে।
(৯) কোন স্ত্রীলোক দেখার কারণে মনি নির্গত হলে।                                               (শঃবেকায়া)

রোযা রেখেও যে সমস্ত কারণে রোযা ভঙ্গ করা যায়

নিম্নোক্ত কারণসমূহে রোযা ভঙ্গ করা যায়।
(১) হঠাৎ মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হলে যে, কিছু না খেলে বা ঔষধ সেবন না করলে রোগ বৃদ্ধি পাবে।
(২) হঠাৎ অসহ্য পেট বেদনা আরম্ভ হলে।
(৩) সাপে কামড়ালে যদি ঔষধ খাবার প্রয়োজন হয়।
(৪) গর্ভবতী স্ত্রীলোকের বা তার গর্ভস্ত সন্তানের প্রাণ নাশের আশংকা দেখা দিলে।
(৫) এত বেশী পিপাসা লেগেছে যে, প্রাণ নাশের ভয় আছে।
(৬) ছফরের অবস্থায় রোযা রাখতে অসুবিধা হলে।
(৭) হায়েয নেফাস আরম্ভ হয়ে গেলে।
(৮) অতি বেশি দুর্বল হয়ে গেলে।      (শঃ বেকায়া)

রোযার মাকরূহসমূহ

যে সমস্ত কারণে রোযা মাকরূহ হয়। সেগুলো হচ্ছে-
(১) পরনিন্দা বা গালি গালাজ করলে।
(২) দেরীতে ইফতার করলে।
(৩) কোন স্বাদযুক্ত মাজন দিয়ে দাঁত মাজলে।
(৪) গরমের কারণে শরীরে ভিজা কাপড় জড়িয়ে রাখলে।
(৫) কোন কিছুর স্বাদ এহণ করলে
(৬) ছোট শিশুকে কিছু চিবিয়ে দিলে। তবে না খেতে পারলে যদি শিশুর
অসুবিধে হয় তা হলে মাকরূহ নহে। তদ্রুপ স্বামী কড়া মেজাজী হলে
স্ত্রীর জন্য তরকারীর স্বাদ গ্রহণ করলেও অসুবিধে নেই।
(৭) মিথ্যা কথা, ধোঁকাবাজী ইত্যাদি করলে।
(৮) গরমের কারণে বার বার কুল্লি করলে।                                                                   (শঃ বেকায়)

যে সমস্ত দিন রোযা রাখা নিষেধ

বৎসরে পাঁচ দিন রোযা রাখা হারাম। যেমন-
(১) ঈদুল ফিতর অর্থাৎ রোযার ঈদের দিন।
(২) ঈদুল আজহা অর্থাৎ- কোরবানীর ঈদের দিন।
(৩) জিলহজ্জ মাসের এগার, বার ও তের তারিখ।

Add a Comment

Your email address will not be published.