ভুল স্বীকার করাও একটি মহৎ গুণ

ভুল_স্বীকার
Image Credits: Pixabay

জনৈক বুযর্গ আলেম মক্কাশরীফে কুরআন কারীমের তাফসীর করতেন। হযরত মাওলানা শাহ মুহাম্মদ ইসহাক সাহেব দেহলভী (রহঃ) ও মাঝে মাঝে এসে তথায় বসতেন। একদিন মুফাচ্ছির সাহেব একটি ফেকহী মাসআলা ভুল বলেছেন! ঐ সময় হযরত শাহ সাহেব নীরব ছিলেন। যখন দরস শেষ হলো, শাহ সাহেব নিকটে গিয়ে গোপনে জানালেন, আমার এ মাসআলাটা এভাবে জানা আছে। মুফাসসির সাহেব সাথে সাথে সবাইকে ফিরে আসার জন্য উচ্চস্বরে ডাক দিলেন। যখন সবাই উপস্থিত হলো, তখন তিনি বললেন-

“আমি এ মাসআলায় ভুল করে ফেলেছি। আর এ শায়েখ এ ব্যাপারে আমাকে অবগত করেছেন এবং ছহী মাসআলা হলো এইটা।”

অতঃপর তিনি শাহ সাহেবের বর্ণনাকে পুনরাবৃত্তি করে দিলেন।
ফায়দা :  প্রকৃত আলেম এরাই। তাঁদের এ কথা বলতে বিন্দুমাত্র সংকোচ মনে হয় নাই যে, আমার ভুল হয়েছে। তার সাথে এ কথাও বলে দেয়া কত আশ্চর্যের ব্যাপার যে, এ শায়েখ আমাকে অবহিত করেছেন। অথচ শাহ সাহেব গোপনীয়তা রক্ষা করে এ জন্য বলেছেন, যাতে করে তিনি পরের দিন নিজের পক্ষ থেকেই ছহী করে আলোচনা করে দেন। কিন্তু বুযর্গের দেরী করা সহ্য হলো না বরং তখনই সবাইকে ডেকে একত্র করে নিজের ভুল স্বীকার করে ফেললেন এবং তার হিতাকাংখীর পরিচয়ও দিয়ে দিয়েছেন।

এমন ঘটনা যদি আমাদের সাথে হতো তাহলে প্রথমে আমরা আমাদের ভুলই স্বীকার করতাম না। বরং বিতর্ক আরম্ভ করতাম। আর যদি মেনেই নিতাম তাও এত পরিষ্কারভাবে স্বীকার করতাম না। আর যদি পুরাপুরি স্বীকারও করতাম কিন্তু এ কথা বলতাম না যে, আমাকে অমুকে ভুল ধরিয়ে দিয়েছে। বরং পরের দিন এমনভাবে আলোচনা উপস্থাপন করতাম যেন ছাত্ররা ধারণা করে যে, শায়েখ নিজেই ভুল সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন। সুতরাং আমাদের এ ধরনের আচার আচরণ অহংকার ও লৌকিকতা ছাড়া আর কি?

সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন আল্লাহ হাফেজ।

Add a Comment

Your email address will not be published.