কিবলামুখী হওয়া – কিবলামুখী হওয়ার পদ্ধতি।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ আকাশের দিকে আপনার বারংবার তাকানো। আমি লক্ষ্য করছি। ফলে আমি আপনাকে এমন একটি কিবলার দিকে ঘুরিয়ে দিবো যাতে আপনি সন্তুষ্ট হবেন। আপনি আপনার মুখ মাসজিদুল হারামের দিকে ফিরান। তোমরা যেখানেই থাকোনা কেন সে দিকেই মুখ ফিরাও। (ছূরা বাকারা-১৪৪)

Image Credits: Pixabay

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, একবার লোকেরা কুবা নামক স্থানে ফজরের নামায আদায় করছিলো। এমন সময় তাদের নিকটে এক ব্যক্তি এসে বললো: এ রাতে রসূলুল্লাহ স.-এর প্রতি কুরআন নাযিল হয়েছে। আর তাঁকে কা’বামুখী হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে; তাই তোমরা কা’বার দিকে মুখ করে নাও। এ কথা শুনে তারা কা’বার দিকে ঘুরে গেলো। তখন তাদের চেহারা শামের দিকে অর্থাৎ, বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে ছিলো। (বুখারী: ৩৯৪)

সারসংক্ষেপ : উপরোক্ত আয়াত ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, নামাযে কিবলামুখী হওয়া আবশ্যক।

কিবলামুখী হওয়ার পদ্ধতি

হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সা. (মাক্কা বিজয়ের পরে) যখন কা’বা গৃহে প্রবেশ করলেন তখন প্রত্যেক কোনে দুআ’ করলেন কিন্তু নামায না পড়ে বেরিয়ে এলেন। বের হওয়ার পরে কা’বার সামনে দু’রাকাত নামায পড়লেন এবং বললেন, ‘এটাই কিবলা। (বুখারী-৩৮৯) শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি মুসলিম এবং নাসাঈ শরীফেও বর্ণিত হয়েছে। (জামেউল উসূল-১৫১৩)

সারসংক্ষেপ : এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, কেউ কা’বার সন্নিকটে নামায আদায় করলে তাকে হুবহু কা’বার দিকে ফিরতে হবে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, আকাশের দিকে আপনার বারংবার তাকানো আমি লক্ষ্য করছি। ফলে আমি আপনাকে এমন একটি কিবলার দিকে ঘুরিয়ে দিবো যাতে আপনি সন্তুষ্ট হবেন। আপনি আপনার মুখ মাসজিদুল হারামের দিকে ফিরান। যেখানে তোমরা থাকো সে দিকেই মুখ ফিরাও। (ছুরা বাকারা-১৪৪)

সারসংক্ষেপ: এ আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় যে, কা’বার দিকে ফিরা দ্বারা মাসজিদুল হারাম উদ্দেশ্য যা কা’বার চার দিকে বেষ্টন করে আছে। এ আয়াতে উল্লিখিত বিধানে যতটুকু ব্যাপকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা ঐ ক্ষেত্রে প্রজোয্য যখন কেউ মসজিদুল হারামের বাইরে থেকে নামায আদায় করে। অর্থাৎ মসজিদুল হারামের ভিতরে নামায আদায় করলে সরাসরি কা’বা গৃহের দিকে ফিরবে। আর মসজিদুল হারামের বাইরে থেকে নামায আদায় করলে সে মসজিদুল হারামকে সম্মুখে রেখে নামায আদায় করবে। এটা দ্বারাই তার কিবলামুখী হওয়ার দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে।

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, রসূলুল্লাহ স. ইরশাদ করেন, পূর্ব এবং পশ্চিমের মাঝে কিবলা। ইমাম তিরমিযী রহ. বলেন, এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। তিনি আরও বলেন, অনেক সাহাবায়ে কিরাম থেকে বর্ণিত আছে যে, পূর্ব এবং পশ্চিমের মাঝে কিবলা। এ মতই পোষন করেছেন হযরত উমার, আলী, ইবনে আব্বাস এবং হযরত ইবনে উমার রা.। (মদীনা থেকে দক্ষিণ দিকে কিবলা হওয়ায়) হযরত ইবনে উমার রা. বলেন, যখন তুমি কিবলামুখী হবে তখন পশ্চিম দিককে তোমার ডানে এবং পূর্ব দিককে তোমার বামে রাখবে এ দুইয়ের মাঝে যা আছে সেটা কিবলা। (তিরমিযী-৩৪৪)

সারসংক্ষেপ : কা’বা গৃহ এবং মসজিদুল হারাম থেকে দূরে অবস্থানকারীদের জন্য কিবলামুখী হওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্ব হলো, কা’বা যে দিকে অবস্থিত সে দিকে ফিরে নামায পড়া। যেমন, আমাদের দেশ থেকে কা’বা পশ্চিম দিকে অবস্থিত। সুতরাং আমরা পশ্চিম দিকে ফিরে নামায পড়লেই ওটা কিবলামুখী হিসেবে গণ্য হবে। যদিও মানচিত্র, কম্পাস বা অন্য কোন যন্ত্রের সাহায্যে প্রমাণিত হয় যে, আমাদের নামায হুবহু কা’বা বরাবর হয়নি। ইমাম তিরমিযী রহ. হযরত ইবনে উমার রা.-এর বরাতে উপরোক্ত হাদীসের যে ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন তার উদাহরণ হিসেবে পেশ করা যায় যে, কা’বাকে শূন্য ডিগ্রি ধরে তার ডানে-বামে ৪৫ ডিগ্রি পর্যন্ত কা’বার দিক হিসেবে গণ্য। কেননা কুরআন-হাদীসে পৃথিবীর চারটি দিকের কথা আলোচনা করা হয়েছে। তাহলো: পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ। আর পৃথিবীর চতুর্পার্শ্বকে ডিগ্রিতে ভাগ করলে প্রতি ভাগে ৯০ ডিগ্রি করে পড়ে। অতএব, কা’বা থেকে দূরে অবস্থানকারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট কা’বা বরাবর থেকে ডানে ৪৫ ডিগ্নি এবং বামে ৪৫ ডিগ্রি মোট ৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত কা’বার দিক হিসেবে গণ্য করা হবে। এ কারণে নামায আদায়ের সময় খুব খিয়াল রাখতে হবে যে কোন কারণে কিবলার দিক সামান্য পরিবর্তন হলেও যেন এর চেয়ে বেশী সরে না যায়। যে কোন এক দিকে ৪৫ ডিগ্রির চেয়ে বেশী ঘুরে গেলে সেটাকে কা’বার দিক বলে গণ্য করা হবে না। অবশ্য ঘুরে যাওয়ার সাথে সাথে আবার কিবলামুখী হয়ে গেলে নামায ভঙ্গ হবে না। কেননা এ সামান্য বিষয় থেকে বেঁচে থাকা কঠিন। আর শরীআত এটা থেকে মানুষকে রেহাই দিয়েছে। (ছূরা বাকারা: ২৮৬, ছূরা হজ্ব: ৭৮)

Add a Comment

Your email address will not be published.