আল্লাহর জন্য কষ্ট স্বীকার করা

 

আল্লাহর জন্য_কষ্ট স্বীকার করা

 

আল্লাহর জন্য কষ্ট স্বীকার করা

কোন এক জায়গায় একটি জামে মসজিদে এক আতর ব্যবসায়ী আসে। জামাতের পর মুসল্লীরা যথারীতি সুন্নত পড়তে শুরু করে। ঘটনাক্রমে নামাযীদের মধ্যে ঊধ্বর্তন এক সরকারী কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি সালাম ফেরাবার পর এই সাধারণ গরীব আতর ব্যবসায়ী লোকটি সামনে এসে সালাম দিয়ে বলল, জনাব! আপনার নামায ঠিক হয়নি, আবার পড়ে নিন। আমার খুব দুঃখ লাগছে যে, আপনি সময়গুলো অনর্থক নষ্ট করছেন। এ নামায আপনার কোনই উপকারে আসবে না। শুনে তো সাহেব বেচারা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে যে, বেটা নালায়েক বেহুদা কোথাকার! তোর এত বড় সাহস! আমার নামায হয়নি তাতে তোর কি। এতবড় গোস্তাখী! বেরিয়ে যা এখান থেকে। লোকটি শান্তকণ্ঠে বলল, জনাব! এটা গোস্তাখী নয়- খায়েরখাহী, আপনি নামাযটা আবার পড়ে নিন।

যাহোক কথা বাড়তে বাড়তে এক পর্যায়ে সাহেব লোকটিকে প্রহারই করে বসল। মার খেয়ে সে বলল, আপনি মারতে পারেন কিন্তু আপনাকে মসজিদ থেকে বের হতে দেব না, যতক্ষণ না আপনি আবার নামায পড়ে নেন। শোরগোল শুনে চতুর্দিক হতে লোকজন এসে জড়ো হয় এবং ঘটনা শুনে সবাই সাহেবকে বলে যে, এতে এত খারাপ মনে করার কি আছে, সে তো ঠিকই বলছে। আপনি নামাযটা পুনরায় পড়ে নিলেই তো সব চুকে যায়।

মোটকথা শেষ পর্যন্ত তাকে নামায পড়িয়েই ছাড়ল। এবার সে এত ধীরস্থিরভাবে তাদীলের সঙ্গে নামায পড়ল যেন জীবনে এটাই তার প্রথম নামায। কারণ, এবারও যদি পূর্বের ন্যায় পড়ত, তাহলে আবারো ঝগড়া বেঁধে যেত।

এবার কর্মকর্তা বেচারা নামায পড়ে চলে যাওয়ার পর ঐ ব্যবসায়ীর মহল্লায় তার খুব প্রসিদ্ধি ছড়িয়ে পড়ে এবং লোকে তাকে বুযর্গ মনে করতে শুরু করে। যেদিকেই যায় লোকেরা বলে যে, হযরত! এখানে একটু বসুন, একটু আমাদের ঘরে আসুন ইত্যাদি। এবার মানুষ প্রয়োজনে নয়-বরকতের জন্য তার আতর ক্রয় করে। আবার দামাদামীও করে না যে, ন্যায্যমুল্যের চেয়ে বেশী নিলে তাতে বরকত হবে। মোটকথা, এতে তার আতর ব্যবসাও জমজমাট হলো এবং দ্বীনের একটি কাজে দুনিয়ারও উপকার হলো।

ফায়েদাঃ সারকথা, আল্লাহর এমনও বহু বান্দা আছেন, যারা আল্লাহর জন্য নানাধরনের কষ্ট স্বীকার করে থাকেন। আর আমরা এই অন্যায় কাজে বাঁধা দেই না যে, এতে পারস্পরিক সম্প্রীতি নষ্ট হয়ে যাবে।

সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এবং Shamimblog  এর সাথেই থাকুন ধন্যবাদ।

Add a Comment

Your email address will not be published.